প্রশ্ন:
বর্তমানে প্রচলিত মহিলা মাদ্রাসা বৈধ কি না—এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এক পক্ষ বলেন, পর্দা রক্ষা, পুরুষ শিক্ষকের সংস্পর্শ, কণ্ঠস্বর ইত্যাদি কারণে মহিলা মাদ্রাসা বৈধ নয়। অন্য পক্ষ বলেন, দ্বীনি প্রয়োজনে ও শর্ত সাপেক্ষে মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক মত কী?
উত্তর:
প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের জন্য মূল বিধান হলো—প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া এবং পরিপূর্ণ পর্দা রক্ষা করা। নবী ﷺ বলেছেন:
“নারী হলো গোপনীয় বস্তু; সে বাইরে বের হলে শয়তান তার প্রতি দৃষ্টি দেয়।”
তবে বাস্তবতার কারণে বর্তমানে বহু পরিবারে ঘরে বসে যথাযথ দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রয়োজনীয় শরয়ী জ্ঞান—যেমন কুরআন-হাদিস, ফরজ মাসআলা ইত্যাদি অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও সেখানে শিক্ষা গ্রহণ জায়েজ।
তবে এর জন্য নিম্নোক্ত শর্তগুলো রক্ষা করা আবশ্যক—
বিশুদ্ধ নিয়ত (শুধু দ্বীনি উদ্দেশ্য)
পূর্ণ পর্দা ও নিরাপদ পরিবেশ
যাতায়াতে মাহরাম থাকা
সুগন্ধি ও সাজসজ্জা পরিহার
পুরুষের সাথে সরাসরি সংস্পর্শ ও যোগাযোগ না থাকা
মহিলা শিক্ষিকার মাধ্যমে পাঠদান, বিশেষ করে, হায়েয-নেফাসসহ বিশেষ মাসআলা মহিলা শিক্ষিকার মাধ্যমে শিক্ষাদান
পূর্ণ শৃঙ্খলা ও তদারকি বজায় রাখা
এসব শর্ত রক্ষা করা হলে মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা বৈধ। শর্তসাপেক্ষে বর্তমান যুগে মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা দ্বীনি শিক্ষা সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।
❖ দলিল ও তথ্যসূত্র:
সূরা আহযাব: ৩৩, রুহুল মাআনি: ২২/২৪৮, সহীহ বুখারী: ১/১৪৭, রদ্দুল মুহতার: ১/৪০৬, আল বাহরুর রায়েক: ৪/৩৩১, মিরকাত শরহে মিশকাত: ২/২৮২
সংকলন
মুফতি আব্দুর রহমান নাঈম কাসেমী

