পবিত্র কুরআন কোনো সাধারণ বই নয়; এটি মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক বাণী। আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এটি অবতীর্ণ হয়। এটি কেবল মুসলিমদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জীবনবিধান হিসেবে প্রেরিত হয়েছে।
কুরআনের গুরুত্ব ও মহিমা
কুরআন হচ্ছে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী (আল-ফুরকান)। এতে রয়েছে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি সমস্যার নির্ভুল সমাধান। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:
"নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথপ্রদর্শন করে যা সবচেয়ে সরল ও সঠিক।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৯)
কেন আমাদের প্রতিদিন কুরআন পড়া উচিত?
১. মানসিক প্রশান্তি: আধুনিক যুগের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝে কুরআন তিলাওয়াত অন্তরে এক অভাবনীয় প্রশান্তি বয়ে আনে। ২. পথপ্রদর্শক: আমরা যখন জীবনের কোনো কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি, কুরআন আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। ৩. বিরাট সওয়াব: কুরআনের প্রতিটি হরফ তিলাওয়াতের জন্য ১০টি করে নেকি পাওয়া যায়। ৪. আধুনিক বিজ্ঞান ও কুরআন: মহাকাশ বিজ্ঞান থেকে শুরু করে ভ্রূণতত্ত্ব—আধুনিক বিজ্ঞানের অনেক বড় বড় আবিষ্কারের ইঙ্গিত কুরআনে কয়েক হাজার বছর আগেই দেওয়া হয়েছে।
কুরআন বুঝে পড়ার প্রয়োজনীয়তা
শুধু তিলাওয়াত নয়, কুরআন নাযিলের মূল উদ্দেশ্য হলো এর বিধানগুলো বুঝে নিজের জীবনে প্রয়োগ করা। আপনি যদি আরবী না বোঝেন, তবে নিজের মাতৃভাষায় (বাংলায়) এর অনুবাদ ও তাফসীর পড়ার চেষ্টা করুন। এটি আপনার চিন্তা করার ধরণ বদলে দেবে।
শেষ কথা
কুরআন হলো অন্ধকারের মাঝে একটি উজ্জ্বল আলো। আপনি যদি জীবনে প্রকৃত সফলতা এবং পরকালে মুক্তি চান, তবে আজই কুরআনের সাথে আপনার সম্পর্ক গভীর করুন। প্রতিদিন অন্তত এক পৃষ্ঠা হলেও অর্থসহ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআনের আলোয় জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
