সুদের টাকা দিয়ে ঘুষ দেওয়া কি জায়েজ?
ইসলামে সুদ একটি মারাত্মক হারাম কাজ। কুরআন ও হাদিসে সুদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। শুধু সুদ গ্রহণকারী নয়; সুদের লেনদেনের সাথে জড়িত সকল ব্যক্তির ব্যাপারেই কঠোর ভর্ৎসনা করা হয়েছে। তাই একজন মুসলমানের জন্য সুদ থেকে বেঁচে থাকা এবং সুদের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য।
অনেক সময় দেখা যায়, কেউ সুদের মাধ্যমে কিছু অর্থ অর্জন করার পর মনে করে যে, যেহেতু এই টাকা তার জন্য বৈধ নয়, তাই এটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এমনকি কেউ কেউ ঘুষ দেওয়ার মতো অবৈধ কাজেও এ অর্থ ব্যয় করতে চায়। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
ঘুষ দেওয়া নিজেই একটি গুরুতর গুনাহ। অন্যদিকে সুদের টাকা হারাম সম্পদ। তাই সুদের টাকা দিয়ে ঘুষ দিলে একটি গুনাহ দূর হয় না; বরং দুটি গুনাহ একত্রিত হয়। একদিকে সুদ গ্রহণের গুনাহ, অন্যদিকে ঘুষ দেওয়ার গুনাহ। ফলে এ ধরনের কাজ আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টি আরও বৃদ্ধি করে।
শরিয়তের দৃষ্টিতে সুদের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থের ওপর সুদগ্রহীতার বৈধ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না। তাই সে এ টাকা নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে বা কোনো অবৈধ কাজে ব্যয় করতে পারে না। যদি প্রকৃত মালিককে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়, তাহলে সেই অর্থ তাকে ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক। আর প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া না গেলে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে তা ব্যয় করে দিতে হবে।
অতএব, সুদের টাকা দিয়ে ঘুষ দেওয়া কোনো অবস্থাতেই জায়েজ নয়। বরং এটি সুদ ও ঘুষ—উভয় গুনাহকে একত্রিত করে। একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো হারাম সম্পদ থেকে তওবা করা এবং শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী তা থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা।
তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম: ১৫৯৮, রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৮৫, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/৩৪৯, ফতোয়ায়ে জাকারিয়া (নাওয়াযেল): ১১/৩৯০।
সংকলন
মুফতি আব্দুর রহমান নাঈম কাসেমী
