বিশ্ব ভালোবাসা দিবস : ইসলামী দৃষ্টিতে মূল্যায়ন

Feb 14, 2026

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস: ইসলামী দৃষ্টিতে মূল্যায়ন

মুফতি আব্দুর রহমান নাঈম কাসেমী

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা (দীনুল ইসলাম), যা মানুষের আকীদা, ইবাদত, আখলাক ও সামাজিক জীবনকে সুসংহত করে। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো হায়া (লজ্জাশীলতা), ইফ্ফত (পবিত্রতা) ও পর্দা। এ মূল্যবোধ রক্ষাই ঈমানের দাবি।

সমসাময়িক বিশ্বে কিছু আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবারব্যবস্থা ও নৈতিকতার ধারণায় পরিবর্তন আনার প্রয়াস দেখা যায়। অনেক আলেমের মতে, এসব উদ্যোগের মধ্যে এমন বিষয়ও রয়েছে যা ইসলামী শরিয়তের সীমারেখার সঙ্গে সাংঘর্ষিক—যেমন অবাধ মেলামেশা, বিবাহপূর্ব সম্পর্ককে স্বাভাবিকীকরণ ইত্যাদি। শরিয়তের দৃষ্টিতে নিকাহ-ই একমাত্র বৈধ সম্পর্কের পথ; এর বাইরে সকল প্রকার যৌনসম্পর্ক হারাম এবং তা যিনা হিসেবে গণ্য।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন:

“وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى” — ব্যভিচারের কাছেও যেও না। (সূরা বনী ইসরাঈল ৩২)

এ নির্দেশ শুধু কাজটিকে নয়, বরং সেই সকল উপায়-উপকরণকেও বর্জনের নির্দেশ দেয়, যা মানুষকে ফাহিশা বা অশ্লীলতার দিকে নিয়ে যায়।

ভ্যালেন্টাইনস ডে বা তথাকথিত বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি অমুসলিম ধর্ম ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ইসলামী পরিভাষায় এটি তাশাব্বুহ বিল কুফফার (অমুসলিমদের অনুকরণ)-এর শামিল হতে পারে, যা হাদিসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।” (আবু দাউদ)

বর্তমানে এ দিবসটি ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। উপহার, ফুল, কার্ড ও বিভিন্ন অফারের মাধ্যমে এটি এক প্রকার ভোগবাদী সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে এটি যুবসমাজকে বিবাহপূর্ব প্রেম ও অবাধ সম্পর্কের দিকে প্রলুব্ধ করে, যা ঈমান ও আখলাকের জন্য ক্ষতিকর।

ইসলামের শিক্ষা হলো—

গদ্দুল বাসর (দৃষ্টি সংযম)

হিফযুল ফুরূজ (লজ্জাস্থান হেফাজত)

বৈধ পথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা (নিকাহ)

এবং যুবসমাজকে তাকওয়া ও আত্মসংযমে উদ্বুদ্ধ করা

অতএব, একজন মুমিনের করণীয় হলো নিজের ঈমান, আকীদা ও আখলাক রক্ষা করা এবং এমন সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা যা ফিতনা ও গুনাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে। মুসলিম সমাজের উচিত পরিবারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, তরুণদের ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিকতায় গড়ে তোলা এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ব্যাপারে সচেতন থাকা।

আল্লাহ আমাদেরকে তাকওয়া, ইফ্ফত ও হায়ার উপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন।

আরও পড়ুন (সম্পর্কিত নিবন্ধ)